শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মেনু
×

দাবি আদায় না হলে রাতভর ইসি অবরুদ্ধ থাকবে

রেডিও বার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
ইসি সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রদল

পোস্টাল ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষপাতদুষ্ট আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ইসি ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

রোববার ইসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সংগঠনটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হলে, আমাদের কথা কর্ণপাত না করলে সারারাত ইসি ভবন ঘেরাও করে রাখবো।


ছাত্রদলের ৩ অভিযোগ হচ্ছে-

১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।

২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।

ইসির কাঠগড়ায় দ্বৈত নাগরিকত্ব

রেডিও বার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২০ পিএম
ব‍্যারিস্টার আবু সায়েম। ছবি : সংগৃহীত

শিরোনামের বিষয়বস্তু এ সময়ের বার্নিং ইস‍্যু। প্রক্রিয়াগত সঙ্গতির প্রশ্নে হুমকির মুখে পড়েছে জাতীয় নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের সম্ভাব‍্য প্রার্থিতা। অ‍্যাপিলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে নির্বাচন কমিশন আর অস্থির হয়ে উঠছে রাজনীতি। এ বিষয়ে তাই আমার সংক্ষিপ্ত মতামত তুলে ধরলাম।

নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কেবল প্রশাসনিক ও বিধিবদ্ধ অ‍্যাপিল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। সাংবিধানিক প্রশ্ন নিষ্পত্তি করার কোনো ক্ষমতা ইসির নেই। এ ক্ষমতা আছে কেবল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের।

ইসিকে অবশ্যই নির্বাচন সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নিজস্ব প্রকাশিত নির্দেশনার সীমার মধ্যে অবস্থান করতে হবে। কোনোভাবেই তারা সংবিধানিক আদালতের ভূমিকা গ্রহণ করতে পারবে না।

নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা

দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও), সংশ্লিষ্ট অন‍্যান‍্য আইন ও বিধিসমূহ এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রকাশিত নির্দেশনা দ্বারা ইসি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

আরপিও এবং ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রার্থীকে নাগরিকত্ব ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সম্পর্কিত বিষয়ে কেবল একটি শপথকৃত হলফনামা (affidavit) দাখিল করতে হয়। হলফনামা একটি আইনস্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ, যা বিপরীত কিছু প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সত্য বলে গণ্য হবে।

নমিনেশন পেপার দাখিলের সময় হলফনামার বাইরে নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত কোনো অতিরিক্ত নথি (যেমন—certificate of renunciation) জমা দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অন‍্যদিকে, শিক্ষাগত যোগ্যতার দলিল দাখিলের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হলফনামার মধ্যেই এ পার্থক্য সুস্পষ্ট, যা আইনগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রযোজ্য আইন, বিধি বা তার নিজস্ব নির্দেশনার বাইরে গিয়ে ইসি দলিলগত নতুন শর্ত আরোপ করতে পারে না এবং সে আলোকে নতুন কোনো অযোগ্যতার ভিত্তি সৃষ্টি করতে পারে না।

পূর্ণ আইনগত পরিপালন

একজন সম্ভাব্য প্রার্থী প্রযোজ্য সকল আইন, বিধি ও নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে পরিপালন করলে রিটার্নিং অফিসার আইনসম্মতভাবেই তার নমিনেশন বৈধ বলে বিবেচনা করবে।

আপিল শুনানির পর্যায়ে ইসি পূর্বে অনাবশ্যক ছিল এমন কোনো নতুন শর্ত আরোপ করতে পারবে না। অর্থাৎ কোনো আইন, বিধি বা প্রকাশিত নির্দেশনায় আবশ‍্যক নয়—এমন নথি অনুপস্থিত থাকার কারণে নমিনেশন বাতিল করা আইনসম্মত হবে না। উল্লেখ‍্য যে, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে শপথকৃত হলফনামার বাইরে অন্য কোনো দলিল চাওয়ার কোনো প্রকাশিত চেকলিস্ট ইসির নেই।

যা-ই হোক, যে কোনো অবস্থায়, কোনো সম্ভাব্য প্রার্থী যদি মিথ্যা তথ্য প্রদান করে, প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তিনি অবশ্যই নির্বাচনের অযোগ্য হবেন।

প্রমাণের ভার

দ্য এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২-এর ধারা ১০১ অনুযায়ী, যে পক্ষ কোনো বিষয় দাবি করে, প্রমাণের দায়ভার তার ওপরই বর্তায়। নির্বাচনি আইনেও এ নীতি প্রযোজ্য।

অতএব, নমিনেশন চ্যালেঞ্জকারী, অ‍্যাপিলকারী বা অবজেক্টরের ওপরই প্রমাণের দায়ভার বর্তায়। অর্থাৎ তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, সম্ভাব্য প্রার্থী এখনো বিদেশি নাগরিকত্ব ধারণ করছেন। নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণ দাখিল করা হয়নি—শুধু এই অভিযোগ আইনগতভাবে যথেষ্ট নয়। বিদেশি নাগরিকত্ব বিদ্যমান আছে—এটি প্রমাণ করা অ‍্যাপিলকারীর দায়িত্ব।

নতুন প্রমাণ দাবি করার আইনগত ভিত্তি

আপিল পর্যায়ে নাগরিকত্ব ত্যাগের সনদ দাবি করার আইনগত ভিত্তি কী?

নির্বাচনি আইন, বিধি অথবা নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশনার মধ্যে যা নেই, তার বাইরে গিয়ে কোনো দলিল জমা দিতে বলা বেআইনি।

যদি কোনো আইনি ভিত্তি থাকে, তা দেখানোর দায় আপিলকারী বা নির্বাচন কমিশনের (যদি আপিলকারীর অবস্থানের সঙ্গে তারা একমত হয়)। কিন্তু এমন কোনো স্পষ্ট আইনগত বিধান না থাকলে, সম্ভাব্য প্রার্থীর দাখিলকৃত হলফনামাই পূর্ণাঙ্গ, যথেষ্ট ও আইনগতভাবে বৈধ বলে গণ্য হবে।

প্রযোজ্য আইন, বিধি বা নিজস্ব প্রকাশিত নির্দেশনার সীমা লংঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে ইসির জন্য তা হবে ultra vires ও স্বেচ্ছাচারী, যা আইনত টেকসই নয়।

ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের সহঅধিনায়ক

রেডিও বার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের সহঅধিনায়ক

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলছে সাফ নারী ও পুরুষ ফুটসাল টুর্নামেন্ট। মেয়েরা দারুণ সূচনা করলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশের ছেলেরা। এর মধ্যেই এলো আরেক দুঃসংবাদ। বাংলাদেশ পুরুষ ফুটসাল দলের সহঅধিনায়ক ইনতিশার মোস্তফা চৌধুরীকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে দলের ম্যানেজার ও ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইনতিশার কয়েক মাস আগে মালয়েশিয়ায় এশিয়ান ফুটসাল বাছাইয়ে খেলেছিলেন। এরপর সাফ ফুটসাল স্কোয়াডেও ছিলেন তিনি। কিন্তু আকস্মিকভাবেই এবার টুর্নামেন্টের মাঝপথে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে। টুর্নামেন্টের নিয়ম ভঙ্গের জন্য আয়োজক কিংবা স্বাগতিক দেশ নয়, বরং বাংলাদেশ দলই তাকে দলীয় কারণে বাদ দিয়েছে। যদিওবা থাইল্যান্ড থেকে দলের সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে জানা গেছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি ইনজুরিসংক্রান্ত বিষয়েই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ফুটসালে বাংলাদেশের পথ চলা নতুন হলেও স্বাধীনতার পর থেকে দেশে-বিদেশে নানা টুর্নামেন্ট খেলছে ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের মাঝপথে এ রকম দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল। ফুটবলসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা বা দলীয় আইন ভঙ্গের জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে দল। তবে এ রকম সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে শোকজ বা কারণ দর্শানোর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার কথা। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাফ ফুটসালে নারী দল এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে। দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে তারা। অন্যদিকে, পুরুষ দল দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট অর্জন করেছে। আজ তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগেই সহ-অধিনায়কের বাদ পড়ার ঘটনা দলের মধ্যে প্রভাব পড়বে কীনা তা সময়ই বলবে।

এজেন্ট ব্যাংকিংকে কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখে ইবিএল

রেডিও বার্তা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
এজেন্ট ব্যাংকিংকে কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখে ইবিএল

ইবিএল এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর মূল লক্ষ্য কী ছিল?

আলী রেজা ইফতেখার: ইবিএল এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়া। পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক কম খরচে ব্যাংকের কার্যক্রম বিস্তারের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিংকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?

আলী রেজা ইফতেখার: ইবিএল এজেন্ট ব্যাংকিংকে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। এটি কেবল একটি বিকল্প ডেলিভারি চ্যানেল নয়; বরং কম খরচে আমানত সংগ্রহ, নতুন গ্রাহক সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণের একটি শক্ত ভিত্তি।

আপনার ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি ও অগ্রগতি কেমন?

আলী রেজা ইফতেখার: ইবিএলের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বর্তমানে দেশব্যাপী বিস্তৃত। গ্রাহক সংখ্যা ও লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ, প্রান্তিক ও অনাবৃত এলাকাগুলোয় এজেন্ট আউটলেট সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এজেন্ট ব্যাংকিং কতটা কার্যকর হচ্ছে?

আলী রেজা ইফতেখার: এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রামীণ জনগণের জন্য হিসাব খোলা, সঞ্চয় গঠন ও রেমিট্যান্স গ্রহণ সহজ করেছে। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে অতিমুনাফাভিত্তিক অনানুষ্ঠানিক ঋণ উৎস থেকে তাদের দূরে রাখতে সহায়তা করছে।

ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ ও নতুন গ্রাহক তৈরিতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা কেমন?

আলী রেজা ইফতেখার: ইবিএল এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের আমানত সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ক্ষুদ্র ও নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নতুন গ্রাহক আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আসছেন, যা ব্যাংকের টেকসই ও বৈচিত্র্যময় আমানত ভিত্তি গঠনে সহায়তা করছে।

কৃষক, নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কী ধরনের সেবা বা পণ্য রয়েছে?

আলী রেজা ইফতেখার: ইবিএল এজেন্ট

ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজে হিসাব খোলা, কৃষকদের জন্য শক্তি অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র সঞ্চয়, সীমিত লেনদেনভিত্তিক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মুক্তি ঋণ এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ বা আর্থিক সচেতনতা কার্যক্রম রয়েছে। পাশাপাশি ১০০ টাকায় মাসিক সঞ্চয় স্কিম এবং ১০ হাজার টাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্কিম খোলার সুবিধা রয়েছে, যা ব্যাংকিং সেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।

কালবেলা: এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

আলী রেজা ইফতেখার: ইবিএল এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ, রিয়েল-টাইম ট্রানজেকশন মনিটরিং, এএমএল বা সিএফটি নীতিমালা অনুসরণ এবং শক্তিশালী আইটি সিকিউরিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত অডিট ও মাঠপর্যায়ের তদারকি কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি এজেন্ট আউটলেটের সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য ব্যাংকের প্রতিনিধি নিয়োজিত রয়েছেন।

কালবেলা: মাঠপর্যায়ে এজেন্টদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে কীভাবে মনিটরিং করা হয়?

আলী রেজা ইফতেখার: এজেন্টদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে ইবিএল নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান, মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন, লেনদেন বিশ্লেষণ, গ্রাহক অভিযোগ পর্যালোচনা এবং অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ছাড়া ব্যাংকের প্রতিনিধি নিয়মিত নিয়োজিত রয়েছেন নিজ নিজ আউটলেটে মাঠপর্যায়ে এজেন্টদের দক্ষতা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে।

কালবেলা: এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনায় সবচেয়ে বড় কী চ্যালেঞ্জ দেখছেন?

আলী রেজা ইফতেখার: গ্রাহকদের আর্থিক সচেতনতার ঘাটতি, এজেন্টদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইবিএলের এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কালবেলা: এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে নীতিমালায় কী ধরনের সংস্কার বা নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

আলী রেজা ইফতেখার: ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রণোদনামূলক নীতিসহায়তা এজেন্ট ব্যাংকিং খাতকে আরও গতিশীল করতে পারে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ ও রেমিট্যান্স সংশ্লিষ্ট নীতিগত সহায়তা এ খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কালবেলা: আগামী পাঁচ বছরে আপনার ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

আলী রেজা ইফতেখার: আগামী পাঁচ বছরে ইবিএল এজেন্ট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ, নতুন ডিজিটাল ও মূল্যসংযোজিত সেবা সংযোজন এবং আরও বেশি গ্রামীণ জনগণকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে সেবার গুণগত মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কালবেলা: গ্রাহক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?

আলী রেজা ইফতেখার: গ্রাহকদের প্রতি আমাদের বার্তা—নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে নিয়মিত সঞ্চয় ও বিনিয়োগে মনোযোগী হোন। আর তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলব, ইবিএলের এজেন্ট ব্যাংকিং কেবল একটি ব্যবসায়িক সুযোগ নয়; এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম।